আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের মাধ্যমিকের পর স্কলারশিপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। সরকারি থেকে বেসরকারি—কোন স্কলারশিপে কত টাকা পাওয়া যায়, মাধ্যমিকে কত পেলে স্কলারশিপ পাওয়া যায় , আবেদনের যোগ্যতা কী এবং কীভাবে আবেদন করবেন, তার বিস্তারিত তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো।
স্কলারশিপ কি ? (What is Scholarship ) :
স্কলারশিপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে পড়াশোনার খরচ দিনদিন বাড়ছে। বিশেষ করে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে টিউশন ফি, বইপত্রের দাম এবং প্রজেক্টের খরচ মেটানো অনেক মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাইন্স বা বিভিন্ন প্রোফেশনাল কোর্সে পড়ার খরচ অনেকটাই বেশি। এই সময়ে একটি সঠিক স্কলারশিপ শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্যই করে না, বরং ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। আপনি যদি ২০২৬ সালে মাধ্যমিক পাশ করে থাকেন, তবে এই তালিকাটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি স্কলারশিপ (পশ্চিমবঙ্গ সরকার)
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে বেশ কিছু জনপ্রিয় স্কলারশিপ রয়েছে যা মেধা এবং পারিবারিক আয়ের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ (SVMCM)
পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বেশি টাকার সরকারি স্কলারশিপ হলো এটি। একে অনেকে ‘বিকাশ ভবন স্কলারশিপ’ নামেও চেনেন।
- প্রদানকারী: পশ্চিমবঙ্গ সরকার (উচ্চশিক্ষা দপ্তর)।
-
যোগ্যতা (Eligibility):
- মাধ্যমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৬০% নম্বর পেতে হবে।
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে হবে।
- পারিবারিক আয়: বছরে ২,৫০,০০০ টাকার (আড়াই লক্ষ) কম হতে হবে।
-
স্কলারশিপের পরিমাণ:
- কলা ও বাণিজ্য বিভাগ: মাসে ১,০০০ টাকা (বছরে ১২,০০০ টাকা)।
- বিজ্ঞান বিভাগ: মাসে ১,৫০০ টাকা (বছরে ১৮,০০০ টাকা)।
- আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনের মাধ্যমে svmcm.wb.gov.in পোর্টালে আবেদন করতে হয়।
- গুরুত্বপূর্ণ নোট: এই স্কলারশিপ পেলে অন্য কোনো সরকারি স্কলারশিপ (যেমন নবান্ন বা ওয়েসিস) পাওয়া যায় না।
২. নবান্ন স্কলারশিপ (চিফ মিনিস্টারস রিলিফ ফান্ড)
যাদের মাধ্যমিকে নম্বর কিছুটা কম বা যারা স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের জন্য যোগ্য নন, তাদের জন্য এই স্কলারশিপটি আশির্বাদস্বরূপ।
- প্রদানকারী: মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল (Chief Minister’s Relief Fund)।
-
যোগ্যতা:
- মাধ্যমিকে পাশ নম্বর থাকতে হবে (সাধারণত ৫০% থেকে ৫৯% নম্বরের ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করে)।
- যারা SVMCM স্কলারশিপ পাচ্ছেন না, শুধুমাত্র তারাই আবেদনযোগ্য।
- পারিবারিক আয়: বছরে ১,২০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
- স্কলারশিপের পরিমাণ: বছরে এককালীন ১০,০০০ টাকা।
- আবেদন পদ্ধতি: এটি মূলত অফলাইন এবং অনলাইন উভয় মাধ্যমেই করা যায় wbcmo.gov.in পোর্টালের মাধ্যমে। তবে ফর্ম ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ নবান্ন (হাওড়া) তে সরাসরি জমা দিতে হয় বা স্পিড পোস্টের মাধ্যমেও পাঠানো যায়।
৩. ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ (Aikyashree Scholarship)
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ।
- প্রদানকারী: WBMDFC (West Bengal Minorities Development and Finance Corporation)।
- কাদের জন্য: মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, পারসি এবং জৈন সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য।
-
বিভাগ:
- Post Matric: ৫০% থেকে ৫৯% নম্বর প্রাপকদের জন্য।
- Swami Vivekananda MCM (Minority): ৬০% বা তার বেশি নম্বর প্রাপকদের জন্য।
- পারিবারিক আয়: ২ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
- স্কলারশিপের পরিমাণ: পোস্ট ম্যাট্রিকের ক্ষেত্রে বছরে ৫,০০০-৭,০০০ টাকা এবং মেরিট কাম মিনস-এর ক্ষেত্রে বছরে ১২,০০০-১৮,০০০ টাকা।
- আবেদন পদ্ধতি: wbmdfcscholarship.in পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
৪. ওয়েসিস স্কলারশিপ (Oasis Scholarship)
তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপ।
- প্রদানকারী: অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ।
-
যোগ্যতা:
- মাধ্যমিক পাশ করে একাদশ শ্রেণিতে পাঠরত হতে হবে।
- নির্দিষ্ট কাস্ট সার্টিফিকেট (SC/ST/OBC) থাকতে হবে।
-
পারিবারিক আয়:
- SC/ST: বছরে ২,৫০,০০০ টাকার কম।
- OBC: বছরে ১,০০,০০০ টাকার কম।
- স্কলারশিপের পরিমাণ: হোস্টেলার এবং ডে-স্কলার ভেদে টাকার অঙ্ক আলাদা হয়। সাধারণত বছরে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা বা তার বেশি পাওয়া যায়।
- আবেদন পদ্ধতি: oasis.gov.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
মাধ্যমিক স্কলারশিপ লিস্ট ২০২৬ (বেসরকারি ও অন্যান্য)
সরকারের পাশাপাশি অনেক নামী বেসরকারি সংস্থা মেধাবী কিন্তু দুস্থ ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করে। Scholarship for Madhyamik pass students WB তালিকায় এগুলো অত্যন্ত সম্মানজনক।
৫. জিপি বিড়লা স্কলারশিপ (G.P. Birla Scholarship)
এটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রেস্টিজিয়াস প্রাইভেট স্কলারশিপ।
- প্রদানকারী: জি.পি. বিড়লা এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন।
- যোগ্যতা:
- মাধ্যমিকে ৮০% বা তার বেশি নম্বর (রাজ্য বোর্ড) অথবা ৮৫% (সেন্ট্রাল বোর্ড)।
- পারিবারিক আয়: বছরে ৩,০০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
- স্কলারশিপের পরিমাণ: বছরে প্রায় ৫০,০০০ টাকা (টিউশন এবং হোস্টেল ফি মিলিয়ে)। এছাড়া এককালীন বই কেনার খরচ দেওয়া হয়।
- আবেদন পদ্ধতি: অফলাইন এবং অনলাইন উভয় মাধ্যমেই আবেদন করা যায়। সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসে ফর্ম ছাড়ে।
৬. সীতারাম জিন্দাল স্কলারশিপ (Sitaram Jindal Scholarship)
বেঙ্গালুরুর এই সংস্থাটি সারা ভারতের ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ দেয় এবং এটি পাওয়ার হার অনেক বেশি।
- প্রদানকারী: সীতারাম জিন্দাল ফাউন্ডেশন।
-
যোগ্যতা (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি):
- ছাত্রদের জন্য: মাধ্যমিকে ৬০% নম্বর।
- ছাত্রীদের জন্য: মাধ্যমিকে ৫৫% নম্বর।
- পারিবারিক আয়: বছরে ২.৫ লক্ষ টাকার কম (চাকরিজীবীদের জন্য) এবং ৪ লক্ষ টাকার কম (অন্যদের জন্য)।
- স্কলারশিপের পরিমাণ: মাসে ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা।
- আবেদন পদ্ধতি: এদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করে অফলাইনে পোস্টের মাধ্যমে পাঠাতে হয়। এটি সারা বছর খোলা থাকে।
৭. প্রিয়ংবদা বিড়লা স্কলারশিপ (Priyamvada Birla Scholarship)
সাউথ পয়েন্ট এডুকেশন সোসাইটি দ্বারা পরিচালিত এই স্কলারশিপটি মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য দারুণ সুযোগ।
- যোগ্যতা: মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট এবং পারিবারিক আয় বছরে ১,৫০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
- স্কলারশিপের পরিমাণ: বছরে ২৪,০০০ টাকা। স্নাতক স্তর পর্যন্ত রিনিউ করা যায়।
- আবেদন: অনলাইনে pbs.southpoint.edu.in পোর্টালে আবেদন করতে হয়।
৮. অনন্ত মেরিট স্কলারশিপ (Anant Merit Scholarship)
খুবই গরিব পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই স্কলারশিপ।
- যোগ্যতা: মাধ্যমিকে ৭০% নম্বর এবং পারিবারিক আয় বছরে ৬০,০০০ টাকার কম।
- টাকার পরিমাণ: বছরে ৬,০০০ টাকা।
- আবেদন: ananteducation.org ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
কত % নম্বরে কোন স্কলারশিপ পাওয়া যায়? (Quick Guide)
ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য এখানে নম্বরের ভিত্তিতে একটি তালিকা দেওয়া হলো। এটি দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনি কোনটির জন্য যোগ্য।
- ৩৫% - ৪৯% নম্বর: ওয়েসিস স্কলারশিপ (SC/ST/OBC দের জন্য)।
- ৫০% - ৫৯% নম্বর: নবান্ন স্কলারশিপ (জেনারেল), ঐক্যশ্রী (সংখ্যালঘু), সীতারাম জিন্দাল (মেয়েদের জন্য ৫৫%)।
- ৬০% - ৭৪% নম্বর: স্বামী বিবেকানন্দ (SVMCM), সীতারাম জিন্দাল (ছেলেদের জন্য), অনন্ত মেরিট (৭০%)।
- ৭৫% এবং তার বেশি: জগদীশ বোস সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ (JBNSTS - শুধুমাত্র বিজ্ঞানের জন্য), জিপি বিড়লা (৮০%), প্রিয়ংবদা বিড়লা।
ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টাল (NSP)
কেন্দ্রীয় সরকারের এই পোর্টালের মাধ্যমেও মাধ্যমিক পাশের পর আবেদন করা যায়। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী (Pre-matric/Post-matric for PwD) এবং বিড়ি শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য এখানে বিশেষ স্কিম থাকে। তবে মনে রাখবেন, আপনি যদি রাজ্যের কোনো স্কলারশিপ (যেমন SVMCM) নেন, তবে সাধারণত কেন্দ্রীয় স্কলারশিপের টাকা পাওয়া যায় না। যেকোনো একটি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
স্কলারশিপের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Required Documents)
যেকোনো স্কলারশিপে আবেদনের জন্য নিচের ডকুমেন্টগুলো আগে থেকেই প্রস্তুত রাখবেন:
- মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড।
- মাধ্যমিকের মার্কশিট (উভয় পিঠ)।
- ব্যাঙ্কের পাসবুক (অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই ছাত্র বা ছাত্রীর নিজের নামে হতে হবে এবং আধারের সাথে লিঙ্ক থাকা বাঞ্ছনীয়)।
- আধার কার্ড / ভোটার কার্ড।
- ইনকাম সার্টিফিকেট (ভিডিও / এসডিও / জয়েন্ট বিডিও দ্বারা ইস্যু করা - সরকারি স্কলারশিপের জন্য। প্রাইভেট স্কলারশিপের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা হতে পারে)।
- কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
- রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
- ভর্তির রসিদ (একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রমাণপত্র)।
স্কলারশিপ আবেদনের পদ্ধতি (Step-by-Step)
২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী বেশির ভাগ আবেদনই অনলাইনে হয়। প্রক্রিয়াটি সাধারণত এরকম:
- ধাপ ১: সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান।
- ধাপ ২: 'New Registration' অপশনে ক্লিক করে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর ও ইমেল দিয়ে রেজিস্টার করুন।
- ধাপ ৩: প্রাপ্ত আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
- ধাপ ৪: আবেদনপত্রে ব্যক্তিগত তথ্য ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিখুঁতভাবে পূরণ করুন।
- ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করুন (PDF বা JPEG ফরম্যাটে, নির্দিষ্ট সাইজের মধ্যে)।
- ধাপ ৬: 'Submit' করার আগে সব তথ্য মিলিয়ে নিন এবং প্রিন্ট আউট নিজের কাছে রাখুন।
- ধাপ ৭: কিছু ক্ষেত্রে (যেমন নবান্ন বা জিন্দাল) হার্ডকপি হেড অফিসে জমা দিতে বা পাঠাতে হতে পারে।
একনজরে মাধ্যমিক পাস যোগ্যতায় সমস্ত স্কলারশিপ লিস্ট 2026
| স্কলারশিপের নাম | টাকার পরিমাণ (বার্ষিক) | অফিসিয়াল ওয়েবসাইট |
|---|---|---|
| স্বামী বিবেকানন্দ (SVMCM) | ₹১২,০০০ - ₹১৮,০০০ | Apply Here |
| নবান্ন স্কলারশিপ | ₹১০,০০০ (এককালীন) | Apply Here |
| ঐক্যশ্রী (সংখ্যালঘু) | কোর্স অনুযায়ী আলাদা | Apply Here |
| ওয়েসিস (SC/ST/OBC) | ₹৩,০০০ - ₹৫,০০০+ | Apply Here |
| JBNSTS (সায়েন্স) | ₹১৫,০০০ + বই কেনার টাকা | Apply Here |
| সীতারাম জিন্দাল | ₹৬,০০০ - ₹৮,৪০০ | Apply Here |
| জি.পি. বিড়লা | প্রায় ₹৫০,০০০ | Apply Here |
| প্রিয়ংবদা বিড়লা | ₹২৪,০০০ | Coming Soon |
| অনন্ত মেরিট | ₹৬,০০০ | Coming Soon |
স্কলারশিপ সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ এ কত টাকা পাওয়া যায় ?
উঃ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কলা ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য মাসে ১০০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়া হয়।
২. আমি কি একসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ ও নবান্ন স্কলারশিপে আবেদন করতে পারি?
উঃ না। নিয়ম অনুযায়ী আপনি রাজ্য সরকারের যেকোনো একটি স্কলারশিপের সুবিধা নিতে পারেন। দুটি একসাথে আবেদন করলে দুটিই বাতিল হতে পারে।
৩. ২০২৬ সালে মাধ্যমিক স্কলারশিপের ফর্ম ফিলাপ কবে শুরু হবে?
উঃ সাধারণত মাধ্যমিকের ফলাফল বেরোনোর পর, আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাস থেকে সরকারি স্কলারশিপের পোর্টালগুলো খুলে দেওয়া হয়।
৪. আমার বাবার ইনকাম ৩ লাখ টাকা, আমি কি সরকারি স্কলারশিপ পাব?
উঃ সরকারি স্কলারশিপের (SVMCM) জন্য আয়ের উর্ধ্বসীমা ২.৫ লক্ষ টাকা। তবে কিছু প্রাইভেট স্কলারশিপে (যেমন জিপি বিড়লা) আয়ের সীমা ৩ লক্ষ বা তার বেশি থাকলেও আবেদন করা যায়।
৫. স্কলারশিপের টাকা ঢুকতে কত দিন লাগে?
উঃ আবেদন ভেরিফিকেশন হওয়ার পর সাধারণত ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে টাকা ঢুকে যায়। তবে ফান্ডের ওপর ভিত্তি করে সময় কম-বেশি হতে পারে।
৬. নবান্ন স্কলারশিপ কত টাকা দেয় ?
উঃ এককালীন ১০ হাজার টাকা।
আরো পড়ুন : মাধ্যমিক পাস যুবক যুবতীদের মাসে ১৫০০ টাকা দিচ্ছে সরকার। দেখুন আবেদন পদ্ধতি
পরিশেষে,
মাধ্যমিকের পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য টাকার অভাব এখন আর বড় বাধা নয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং বিভিন্ন ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রচুর মাধ্যমিক স্কলারশিপ লিস্ট 2026 এখন হাতের মুঠোয়। এছাড়াও রয়েছে মেয়েদের জন্য কন্যাশ্রী প্রকল্প। আপনার কাজ হলো সঠিক সময়ে, সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করা।
পরামর্শ থাকবে, রেজাল্ট বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই ইনকাম সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট রেডি করে ফেলুন। তাড়াহুড়ো করবেন না, কিন্তু ডেডলাইন মিস করবেন না। আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ‘Edugup’ পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক শুভকামনা রইল।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো, যাতে তারাও এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :এই আর্টিকেলে দেওয়া সমস্ত স্কলারশিপ সংক্রান্ত তথ্য নির্ভুল ও আপডেটভাবে উপস্থাপন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তবুও অনিচ্ছাকৃত কোনো তথ্যগত ত্রুটি থেকে যেতে পারে, যা মার্জনীয়। স্কলারশিপের নিয়ম, যোগ্যতা, টাকার পরিমাণ বা আবেদন পদ্ধতি সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের অফিসিয়াল পোর্টাল বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে সর্বশেষ তথ্য অবশ্যই যাচাই করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
