​খড়গপুরের গ্রাম থেকে সোজা মাইক্রোসফট! কোটি টাকার প্যাকেজে তাক লাগিয়ে দিলেন বাংলার সুমন

Suman bera linkedin job succes story


স্বপ্ন দেখতে বড় শহরে জন্মাতে হয় না, লাগে শুধু অদম্য জেদ আর সঠিক সুযোগ—এই প্রবাদটিই সত্যি করে দেখালেন পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরের এক লড়াকু তরুণ। গ্রামের কাঁচা রাস্তা আর নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসার থেকে উঠে এসে সুমন বেরা এখন খবরের শিরোনামে। মার্কিন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের অধীনস্থ বিশ্বখ্যাত সংস্থা লিঙ্কডইন (LinkedIn)-এ বার্ষিক প্রায় ১ কোটি টাকার চাকরির অফার পেয়েছেন তিনি। সুমনের এই সাফল্যে আজ গর্বিত গোটা বাংলা।

​ খড়গপুরের সাধারণ গ্রাম থেকে ১ কোটি টাকার চাকরি! মাইক্রোসফটের লিঙ্কডইনে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিযুক্ত হলেন সুমন বেরা। জানুন তাঁর লড়াইয়ের গল্প।

অভাবকে জয় করে বিশ্বজয়ের পথে

​খড়গপুর ২ নম্বর ব্লকের বাড়বাঁশী গ্রামের বাসিন্দা সুমন বেরার জীবনটা আর পাঁচটা সাধারণ গ্রাম্য ছেলের মতোই ছিল। বাবা অচল কুমার বেরা পেশায় কৃষক হলেও বয়সের ভারে এখন আর জমিতে নামতে পারেন না। মা ও দুই দিদির অভাবের সংসার চলত রাজ্য সরকারের কিছু ভাতা আর দিদির টিউশন পড়ানোর সামান্য আয়ে। কিন্তু দারিদ্র্য কখনো সুমনের মেধার পথে বাধা হতে পারেনি। অষ্টম শ্রেণি থেকেই বিভিন্ন স্কলারশিপের টাকায় নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন তিনি।

​বর্তমানে সুমন জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সেখান থেকেই নিজের প্রযুক্তির প্রতি ভালোবাসাকে পেশায় রূপ দেওয়ার লড়াই শুরু করেন।

লিঙ্কডইনের এক ক্লিকেই বদলে গেল জীবন

​সুমন বরাবরই প্রযুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে চর্চা করতে ভালোবাসতেন। সেই প্যাশন থেকেই তিনি আবেদন করেছিলেন লিঙ্কডইনের ইন্টার্নশিপের জন্য। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাওয়ার পর, গত বছরের মে মাসে বেঙ্গালুরুতে তিন মাস কাজ করেন তিনি। সুমনের কাজের দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ফলাফলস্বরূপ, কলেজের পাঠ শেষ করার আগেই তাঁর হাতে এসে পৌঁছেছে কোটি টাকার স্বপ্নের অফার লেটার।

আরো পড়ুন : যুব সাথী প্রকল্প কি ? কিভাবে আবেদন করবেন জানুন 

​সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসে বেঙ্গালুরুতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজে যোগ দেবেন সুমন। এই সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জেদ থাকলে যে কোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।”

গ্রামের মোড়ে মোড়ে এখন শুধুই সুমনের জয়গান

​সুমনের এই সাফল্যে খুশির জোয়ার বাড়বাঁশী গ্রামে। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে কলেজের ক্যাম্পাস—সব জায়গাতেই এখন একটাই আলোচনা, “আমাদের গ্রামের ছেলে মাইক্রোসফটে যাচ্ছে!” ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগপ্রবণ সুমনের পরিবারও। যে ছেলে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে একসময় লড়াই করেছেন, তাঁর এই উত্থান আজ হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণা।

সাকসেস স্টোরি: এক নজরে সুমনের যাত্রা

  • নাম: সুমন বেরা।
  • বাসস্থান: বাড়বাঁশী গ্রাম, খড়গপুর ২ নম্বর ব্লক, পশ্চিম মেদিনীপুর।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
  • সংস্থা: লিঙ্কডইন (মাইক্রোসফটের অধীনস্থ)।
  • পদ: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
  • প্যাকেজ: বার্ষিক প্রায় ১ কোটি টাকা।

ভবিষ্যৎ ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য টিপস (FAQ)

১. সাধারণ গ্রাম থেকে সুমন কীভাবে এই সাফল্য পেলেন?

উত্তর: সুমন অভাবের মধ্যেও ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন টেকনিক্যাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং স্কলারশিপের সাহায্য নেওয়া তাঁর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

২. লিঙ্কডইনে চাকরির জন্য কী কী দক্ষতা প্রয়োজন?

উত্তর: কোডিং, অ্যালগরিদম, এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ওপর ভালো দখল থাকতে হয়। এছাড়া ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতাও বড় ভূমিকা পালন করে।

৩. আর্থিক অভাব থাকলে কি বড় সংস্থায় যাওয়া সম্ভব?

উত্তর: অবশ্যই। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন স্কলারশিপের সুযোগ নিয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা এখন সুমনের মতোই এগিয়ে যেতে পারেন।

​আরো পড়ুন : মাধ্যমিক পাশ করলেই পোস্ট অফিসে চাকরির দারুন সুযোগ। জানুন আবেদন পদ্ধতি 

​সুমন বেরার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মেধা এবং পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। একফালি কৃষিজমি থেকে কোটি টাকার অফিস—এই দীর্ঘ পথ সুমন পাড়ি দিয়েছেন নিজের যোগ্যতায়। সুমনের এই জয় শুধু তাঁর পরিবারের নয়, বরং গোটা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার এক বড় সাফল্য। EduGup-এর পক্ষ থেকে সুমনকে আগামীর অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

________________________________________
About the Author
Bikram Dutta

Bikram Dutta

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক। গত ৩ বছর ধরে শিক্ষা, চাকরি এবং সরকারি প্রকল্প নিয়ে নিয়মিত তথ্যসমৃদ্ধ লেখালেখি করছেন। সহজ ও সাবলীল ভাষায় পাঠকদের কাছে সঠিক গাইডেন্স পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

2 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন